ঢাকা, , ৯ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

ঢাকা-১৪ আসনে নির্বাচনের কোন হাওয়া নেই কিন্তু নৌকা প্রতীক পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেক নেতা.

ঢাকা-১৪ আসনে নির্বাচনের কোন হাওয়া নেই কিন্তু নৌকা প্রতীক পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেক নেতা.

আসলামুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চলছে জোর লড়াই। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়নি এখনও, তারওপর চলছে লকডাউন। তবু মনোনয়ন পেতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রত্যাশীরা। ইতিমধ্যেই বিএনপি নির্বাচনে না আসার ঘোষণা দিয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও বেড়েছে। মনোনয়ন পেলেই বিজয়- এমন ধারণায় অন্তত এক ডজন নেতা নৌকা প্রতীক পেতে চান।


রাজধানীর শাহ আলী ও দারুসসালাম থানা, মিরপুরের অর্ধেক এলাকা, রূপনগরের আংশিক, সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৪ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড এই আসনের আওতাধীন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসলামুল হক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিএনপি প্রার্থী এসএ খালেককে পরাজিত করেছিলেন। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে তিনি সংসদে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেন।


রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসন হওয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জোয়ার বইছে ঢাকা ১৪-এ। এরমধ্যে নানানভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন আসলামুল হকের স্ত্রী মাকসুদা হক, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও যুব মহিলা লীগের নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম মাজহারুল আনাম, বৃহত্তর মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা দেলোয়ার হোসেন, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী, অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলসহ অন্তত এক ডজন নেতা। যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নামও শোনা যাচ্ছে প্রার্থী হিসেবে।

সমর্থকরা পছন্দের প্রার্থীকে 'নৌকার মাঝি' করতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও রমজান মাস জুড়েই করেছেন ইফতার বিতরণ। করোনাকালে নিয়মিত অসহায়দের সহায়তাও দিচ্ছেন কেউ কেউ। এর বাইরে দলের থানা-ওয়ার্ডের নেতাদের সংগেও চলছে দেনদরবার। নিজের বলয়ে টানতে প্রতিনিয়তই চলছে নানান সমীকরণ।

অন্যদিকে, দলের হাইকমান্ডেও বেড়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। আসলামুল হকের স্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সংগে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। অন্য প্রার্থীরাও নানান মাধ্যমে হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত চেয়েছেন। যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল জানিয়েছেন প্রচারণায় নামতে সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকার কথা।

দলীয় সূত্র জানায়, শুরু থেকেই ধারণা ছিলো, বিএনপি নির্বাচনে থাকবে না। সেক্ষেত্রে নৌকা পেলেই বিজয় নিশ্চিত- এমন বদ্ধমূল ধারণায় প্রার্থী সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রার্থীদের ঢল থামাতে দলীয় উদ্যোগও নেওয়া হয়। মহানগর উত্তরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা বসেছেন থানা এবং ওয়ার্ড নেতাদের সংগে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন। গত নির্বাচনেও আসলামুল হকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনি। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও নিজস্ব বলয়ে নেতাকর্মী নিয়ে আলোচনায় ছিলেন যুব মহিলা লীগের এই নেত্রী। তিনি বলেন, 'আসলাম ভাই যখন ছিলেন, তখনও আমি কম করিনি। প্রত্যেক ঘরে খাবার, শীতবস্ত্র পৌঁছে দিয়েছি। সবসময় বিপদে-আপদে জনগণের কাছে থেকেছি। অনেকে ওপর মহল সন্তুষ্ট করে রাজনীতি করি। কিন্তু আমি সবসময় তৃণমূল নিয়ে চলি। একজন শক্তিশালী এমপি থাকা অবস্থাতেই নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আমি মনোনয়ন পাইনি। এবার নেত্রীর কাছে জানিয়েছি, আমি প্রার্থী। আশা করি, এবার মনোনয়ন পাবো।'

নির্বাচনী ডামাডোলের শুরু থেকেই বেশ সরব ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। কয়েক দফায় দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে আলোচনায় বসেছেন তিনি। মনোনয়ন পেতে আশাবাদী জানিয়ে বাংলাভিশন ডিজিটালকে তিনি বলেন, 'এই এলাকাতেই আমার রাজনীতির শুরু। দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আমি দলের ওপর আস্থাশীল। এখানে যোগ্য প্রার্থী অনেকেই আছেন। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন, তাঁর পক্ষেই সবাই কাজ করবো।'

আরেক প্রার্থী বৃহত্তর মিরপুর থানা ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের সাবেক সভাপতি মুবাশ্বের চৌধুরীও প্রচারণা চালাচ্ছেন জোরেশোরে। দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতৃত্বে থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অবস্থান রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, 'মনোনয়নটা ভাগ্যের ব্যাপার। আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সংগে আছি। বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সেই জায়গা থেকে আশা করি, দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।'

এর বাইরে অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলও বেশ সরব হয়েছেন মনোনয়ন পেতে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম মাজহারুল আনামও আছে শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায়।

উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল মারা যান আসলামুল হক। তাঁর মৃত্যুতে শূন্য হয় ঢাকা-১৪ আসন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখনো উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। ভোটের তারিখ নির্ধারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সোমবার (২৪ মে) বৈঠকে বসলেও ভোটের তারিখের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়নি। আগামী ২ জুন এ বিষয়ে আবারও বৈঠকের বসবে ইসি।


  • সর্বশেষ - জাতীয়