ঢাকা, , ৯ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

স্ত্রীকে খুশি করতে কিছু সত্য গোপন করা যাবে মামুনুল হক.

  অনলাইন ডেস্ক:-

  প্রকাশ : 

স্ত্রীকে খুশি করতে কিছু সত্য গোপন করা যাবে মামুনুল হক.
মাওলানা মামুনুল হক

স্ত্রীকে খুশী করার জন্য প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে কোনো সত্যকে গোপন করার অবকাশ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক।


বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এ কথা বলেন তিনি।

মামুনুল বলেন, একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে আমার স্ত্রীকে আমি কীভাবে ম্যানেজ করবো, কোন কথা দিয়ে প্রবোধ দেবো, তাকে কোন কথা বলে সান্ত্বনা দেব সেগুলোও আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। ইসলামী শরিয়তের মধ্যেও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, স্ত্রীকে খুশী করার জন্য প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে কোনো সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে। 

নিজের একাধিক বিয়ে প্রসংগে মামুনুল বলেন, আমি যদি চারটি বিয়ে করি তাতে কার কী? শরিয়তে একজন মুসলমানকে চারটি বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দেশীয় আইনেও চারটি বিয়ে করার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। একাধিক বিয়ে করা শরিয়তসম্মত ও নাগরিক অধিকার। এ বিষয়ে যদি কোনো আপত্তি তাকে, তবে তা থাকবে আমার স্ত্রীদের। তারা কেউই এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ করেননি।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রীদের পারষ্পরিক সম্পর্ক কী হবে, আমার সাথে তাদের পারষ্পরিক সম্পর্ক কী হবে সেটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত এখতিয়ার। সেটা লঙ্ঘন করে যারা আমার প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন, আমি মনে করি তারা সকলেই আমার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন, আমার নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছেন।

তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করছি, যারা আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে কটুক্তি করে আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন, সীমা লঙ্ঘন করেছেন তারা এখনই তা বন্ধ করবেন। এবং তাদের সবাই আমার কাছে এবং জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। অন্যথায় আমি আপনাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।

রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনা নিয়েও ফেসবুক লাইভে কথা বলেন মামুনুল হক। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই হেফাজতে ইসলামকে দুর্বল করার জন্যই এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি আশা করিনি যে, বাংলাদেশ এমন একটা অবস্থায় পৌঁছে গেছে, সন্ত্রাসীরা এমন একটি নিরাপদ জায়গাতেও এভাবে হামলা করতে পারে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য। তাদের যদি কোনো যাচাই বাছাইয়ে বিষয় থাকতো, তারা আমার অনুমতি নিয়ে আমার ঘরে প্রবেশ করতে পারতেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য যদি ৩ জন থাকে, সরকার দলীয় ক্যাডার ছিলো ৩০ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী সরকার দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে কেন আমার উপর চড়াও হলো, কেন আমাকে হেনস্তা করলো? আমি যদি রুখে না দাঁড়াতাম, তবে আমি নিশ্চিত তারা আমাকে আরো ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতো। তারা আমার পোশাকের উপর, দাড়ির উপর পর্যন্ত হামলা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

মামুনুল হক বলেন, জান্নাত আরা ঝর্ণার কাছ থেকে আমার অনুমতি ছাড়া যে বক্তব্য তারা ধারণ করেছেন, কার অনুমতি নিয়ে তারা সেটা জনসমক্ষে প্রচার করেছে। আমার পর্দানশীন স্ত্রীর পর্দা তারা লঙ্ঘন করেছে। এর জন্য আমি জনতার আদালতে বিচার দাবি করলাম। আইনানুগভাবেও বিচার চাইবো। এতো এতো ফোনালাপ যে আপনারা ফাঁস করলেন, প্রমাণ কি করতে পারলেন জান্নাত আরা ঝর্ণা আমার স্ত্রী নয়?

  • সর্বশেষ - রাজনীতি