ঢাকা, , ৯ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

বিয়ের তথ্য গোপন করেছিলেন 'শিশুবক্তা' রফিকুল!

  নিজস্ব প্রতিবেদক:-

  প্রকাশ : 

বিয়ের তথ্য গোপন করেছিলেন 'শিশুবক্তা' রফিকুল!
রফিকুল ইসলাম মাদানী

আলোচিত বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী দুই বছর আগে বিয়ে করলেও এতদনি এই তথ্য গোপন রেখেছিলেন। বুধবার (৭ এপ্রিল) র‍্যাবের একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।


সূত্রটি জানায়,  ২০১৯ সালে আসমা বেগম নামের এক নারীকে তিনি বিয়ে করলেও এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছেন বলেও তথ্য পেয়েছে র‍্যাব। যাঁকে বিয়ে করেছেন তিনি রফিকুল ইসলামের ভাবির চাচাতো বোন বলেও জানা গেছে।

এদিকে রফিকুল ইসলামকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে র‍্যাবের ওই সূত্র। তাঁরা জানায়, রফিকুল ইসলামকে আটকের পর তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়। তাতে বিপুল পরিমাণ পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে।


এর আগে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৩টার দিকে নেত্রকোনার পূর্বধলার লেডির কান্দার নিজ বাড়ি থেকে ২৬ বছর বয়সী মাওলানা রফিকুল ইসলামকে আটক করে র‌্যাব-১৪-এর একটি অভিযানিক দল। র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রবিরোধী, উস্কানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে আটক করা হয়েছে।

জানতে চাইলে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন রাতে বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, রফিকুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিজিটাল আইনে মামলা হবে। তবে তাঁর কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে কী কী তথ্য পাওয়া গেছে তা পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। এ মুহূর্তে জানানো যাচ্ছে না।


রফিকুল ইসলাম-এর নামের শেষে 'মাদানী' শব্দ যুক্ত করা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সাধারণত সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা পড়াশোনা করেন, তাঁদের নামের সঙ্গে 'মাদানী' যুক্ত করা হয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা না করেই নিজের নামের সঙ্গে 'মাদানী' শব্দ যুক্ত করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে 'মাদানী' শব্দ প্রত্যাহার করতে রফিকুলকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফুল হাসান খান গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই নোটিশ পাঠান।

রফিকুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনায়। স্থানীয় স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু হলেও পরে তিনি মাদ্রাসায় ভর্তি হন ও নূরানি, হেফজ পড়েন। এরপর আট বছর কিতাবখানায় পড়েন। তিনি রাজধানীর বারিধারায় মাদানী এভিনিউয়ের পাশে অবস্থিত জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস পড়েছেন। এ ছাড়া তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিকদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অঙ্গসংগঠন যুব জমিয়তের নেত্রকোনা জেলার সহ-সভাপতি।


এক ওয়াজ মাহফিলে মিজানুর রহমান আজহারির সমালোচনা করে তাঁর প্রকৃত বয়স উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আমাকে শিশুবক্তা বানিয়ে রাখা হয়। আজহারি সাহেবের দ্বারা যদি ইসলামের খেদমত হয় তাহলে আমার কোনো আপত্তি নাই। আজহারি সাহেব ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন, আর আমি ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেছি। এখনো আমাকে শিশুবক্তা বানিয়ে রাখবেন কেন? আমাদের বয়স মাত্র তিন-চার বছরের ব্যবধান। আল্লাহ তাআলা বানাইছে। দেখতে এমন লাগে। আমার করার কিছু আছে? এ জন্য আমি শুকরিয়া আদায় করি।

নিজের পড়াশোনা নিয়ে বলেন, আমি ছয় বছর বয়স পর্যন্ত বাড়িতে বাংলা ইংরেজি অঙ্ক পড়েছি ও শিখেছি। তারপর ক্লাস সিক্স পর্যন্ত স্কুলে পড়েছি। এরপর মাদ্রাসায় ভর্তি হই। নূরানিতে পড়েছি এক বছর। আল্লাহর রহমতে দুই বছরে হেফজ শেষ করেছি। এখানে তিন বছর, আগের ১২ বছর মোট হলো ১৫ বছর। এরপর আট বছর কিতাবখানায় পড়েছি। কেন বলতেছি এগুলা? ইউটিউবে আমার নামে এত মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে। আমি নিজেকে জ্ঞানী মনে করি না।


  • সর্বশেষ - আইন-অপরাধ