ঢাকা, , ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

করোনায় টেলিমেডিসিন সেবায় বাড়ছে আগ্রহ

করোনায় টেলিমেডিসিন সেবায় বাড়ছে আগ্রহ

মো. ইব্রাহিম। কয়েকদিন ধরে তার চোখে ব্যাথা। চোখ চুলকায়। জ্বাল পোড়া করে। চোখ লাল হয়ে আছে। চিন্তায় পড়লেন। এখন কী করবেন, কোথায় যাবেন। ডাক্তার পাওয়া যাবে কি না। আবার এই মুহুর্তে বাইরে বের হওয়াটাও ঝুঁকিপূর্ণ।

ভাবতে ভাবতে দুই দিন কেটে গেলো। পরে একজনের মাধ্যমে জানতে পারলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মোবাইলে চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছে। এরপর পরামর্শ পেতে করলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের হটলাইন ০১৭৯৯৪১৬৯৫৯ নম্বরে।

এরপর একজন ফোন রিসিভ করে তার সমস্যার কথা শুনলেন। এর তাদের চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফোন নম্বর দিলেন।

তিনি তিনটি মোবাইল নম্বর দিলেন। তিনি সেখান থেকে ০১৭৪২৩১০৩২৩ নম্বরে কল করলেন। একজন কল রিসিভ করে তার সব সমস্যার কথা শুনে ওষুধ বলে দিলেন। এক সপ্তাহ পর আবার কী অবস্থা হয় জানাতে বললেন।

এই সেবা পেয়ে খুব খুশি মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেই পারিনি এতো ভালো সেবা পাব। সব ওষুধ কিনেছি। তাদের সেবায় আমি সন্তুষ্ট।’

শুধু তিনি নন। তার মতো অনেকেই এখন অনলাইনে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার এ সময়ে টেলিমেডিসিনে আগ্রহ বাড়ছে। এ সেবা ডাক্তার-রোগী উভয়েরই জন্য সময়োপযোগী। এতে সকলেরই ঝুঁকি মুক্ত থাকার সম্ভাবনা বেশি।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমেরিকায় ৯০ ভাগ নরমাল রোগীকে অনলাইনের মাধ্যমে দেখে। আমরা শুরু করেছি। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ফেসবুক, টুইটার, স্কাইপের মাধ্যমে রোগী দেখছি। অনেক ডাক্তারের নম্বরও দেওয়া আছে। যেখানে কল করে পরামর্শ নেওয়া যাবে।মহামারির এ সময়ে ইমারজেন্সি না হলে হাসপাতালে না যাওয়ায় ভালো।’

তিনি জানান, এখন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, সংগঠন মোবাইলে চিকিৎসা দিচ্ছে। কোনো কোনো চিকিৎসক ব্যক্তি উদ্যোগেও মোবাইলে চিকিৎসা দিচ্ছেন। কিছু সংগঠন চিকিৎসার পাশাপাশি বাসায় ওষুধ পৌঁছে দিয়ে আসছে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ‘আমার সবাই আগেই মোবাইলে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করি। যখন মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল, হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছি না তখনই প্রথম ২৫ জন চিকিৎসক নিয়ে আমরা টেলি চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। বর্তমানে আমাদের ১২০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রোগীদের মোবাইলে প্রেসক্রিপশন এসএমএস করে পাঠিয়ে দেই। রোগীদের বাসায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের ভলান্টিয়ার রয়েছে। এ সেবা আমরা ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরে চালু করেছি।’

  • সর্বশেষ - স্বাস্খ্য