ঢাকা, , ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি হিসাবের বাইরে ২ হাজারের বেশি মৃত্যু: রয়টার্স

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি হিসাবের বাইরে ২ হাজারের বেশি মৃত্যু: রয়টার্স

জনসংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষ দেশের তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকলেও ইন্দোনেশিয়ায় করোনাভাইরাস মারাত্মক থাবা বসায়নি। সরকারি হিসাব তা বলছে। করোনায় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজারের বেশি লোক, মৃতের সংখ্যা সাড়ে সাতশ। কিন্তু দেশের ৩৪ প্রদেশের ১৬টির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে বলছে, দেশটিতে সরকারি হিসাবের বাইরে আরো ২ হাজারের বেশি লোক মারা গেছে করোনায়। ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ কোভিড-১৯ রোগের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, মৃত্যুর তালিকায় তাদের নাম নিবন্ধিত হয়নি। তিন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ৭৬৫ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেলেও তা আসলে কল্পনার চেয়েও বেশি। কিছু মহামারি বিশেষজ্ঞর মতে, দেশটিতে করোনা পরীক্ষার হার অনেক কম হওয়ায় সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পাওয়া খুব কঠিন।

১৬টি প্রদেশ থেকে পাওয়া বর্তমান তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের তীব্র উপসর্গ নিয়ে তত্ত্বাবধানে থাকা ২ হাজার ২১২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের উপসর্গের ক্লিনিক্যাল ব্যাখ্যা না থাকলেও এসব রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য (পিডিপি) যাচাই করে করোনার সম্ভাব্যতা মিলেছে।

হাসপাতাল, ক্লিনিক ও কবরস্থান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া সংখ্যা অনুযায়ী দৈনিক কিংবা সপ্তাহ ভিত্তিতে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। রয়টার্স বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখে, প্রাদেশিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে এসব তথ্য বের করেছে।

সরকারের কোভিড-১৯ টাস্কফোর্সের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উইকু আদিসাসমিতো রয়টার্সের এই অনুসন্ধানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ না করলেও করোনায় মৃতের এই সংখ্যা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ১৯ হাজার ৮৯৭ জন সন্দেহভাজন করোনা রোগীর অনেকেরই পরীক্ষা করানো হয়নি। কারণ ল্যাবরেটরির সামনে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তিতে পড়তে চায়নি কেউ কেউ। আবার কারো নমুনার ফলাফল পাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। আর মৃতদের বেশিরভাগের নমুনা পরীক্ষা হয়নি।

রয়টার্সকে এই কর্মকর্তা ব্যাখ্যা দেন, ‘যদি হাজার কিংবা শতাধিক নমুনা পরীক্ষা করাতে হয়, তাহলে কাদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে? নিশ্চয় যারা বেঁচে আছে তাদেরই প্রাধ্যান্য দেবে।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুসারে, কেবল শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থদের পিডিপির শ্রেণিভুক্ত করা হবে তা নয়। এসব রোগীর অবশ্যই বিদেশ যাওয়ার ইতিহাস থাকবে কিংবা ইন্দোনেশিয়ার এমন কোনো এলাকায় গেছে যেখানে অসুস্থ হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে কোনো সংক্রমণ হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ পান্ডু রাইয়োনো বলেছেন, ‘পিডিপি শ্রেণির মৃত্যুর বেশিরভাগই কোভিড-১৯ এর কারণে হয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ইন্দোনেশিয়ায় গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে মহামারির ঝুঁকি উড়িয়ে দেন বেশ কয়কজন সরকারি কর্মকর্তা। তাদের বিশ্বাস ছিল নামাজ, ওষুধি চিকিৎসা ও গরম আবহাওয়া এ ভাইরাসকে বিস্তার হতে দেবে না। কিন্তু শুরুতে গুরুত্ব না দেওয়ার ফল ঠিকই ভুগেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর মুসলিম দেশটি।

  • সর্বশেষ - সারাবিশ্ব