ঢাকা, , ১২ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

"আসুন আমরা সবাই মানুষ নয় আগে মানবিক হই"

  সামিরা রহমান :-

  প্রকাশ : 

বিশ্বব্যাপী করোনার সর্বগ্রাসী থাবা,ভয়ানক আগ্রাসন অপ্রতিরোধ্য গতিতেই এগিয়ে চলছে।হিসেবের সব সমীকরন, বিজ্ঞানের লব্ধ সব সতর্ক  উচ্চারন দুমড়ে মুচড়ে অভিশাপের ভষ্মে পরিনত হয়েছে করোনার অগ্নিমূর্তিতে।


কেউ করোনাকে কন্ট্রোল করতে পারছেনা,করোনাই কন্ট্রোল করছে সারা পৃথিবীকে। করোনা পৃথিবীটাকে এক কারাগারে পরিনত করছে, যার কয়েদী তামাম পৃথিবীর সবাই,প্রত্যেকেই মৃত্যুর সমন কাঁধে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।


আমরাও প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিলে দলে দলে যোগ দিচ্ছে কেউ স্বেচ্ছায়,কেউ অনিচ্ছায়।দেশে মৃত্যুর কচ্ছপ গতিটা এখন লাগামহীন পাগলা ঘোড়া।স্নায়ুযুদ্ধ শেষে এখন আমাদের সামনে যে এক মহারন তা বুঝতে আর কারো কষ্ট হচ্ছেনা।


জাতি যখন মৃত্যুকূপে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে,তখনো খবরের শিরোনাম হয় রিলিফ চুরির,মাথা ফাটাফাটির।এরা কতো বড় ডাকাত,কতো বড় যালিম-এই দুঃসময়ে অন্নহীন মানুষের দু'মুঠো চাল ডাল চুরি করে লুকিয়ে রাখতে মোটেও দ্বিধাবোধ করেনা,বিচলিত হয় না এরা, বুক কেঁপে ওঠেনা।


এরা হৃদয়হীন,বিবেকহীন নরপশু।যদি এদের মানুষ বলা হয় তাহলে কলংকিত হবে পুরো মানবজাতি।যেখানে ইউরোপ,আমেরিকায় রাস্তাঘাটে গাছের পাতার মতো টাকা পড়ে আছে,সে টাকা মানুষের কোন কাজেই আসছেনা,সেখানে গরীবের দু'মুঠো ত্রানের চাল চুরি করে কি অট্রালিকা গড়ে ওঠবে? পুকুরচুরি তো সারা বছরই হয়,সবাই না দেখার না বোঝার ভান করে।


এই দুঃসময়ে এই চাল ডাল চুরির কাজটা না করলে হয়তো অন্তত শেষ বেলায় একটা ভালো কাজ করে মরার সুযোগ ছিলো। এই যালিমদের কুকর্মের কারনেই পৃথিবীতে করোনার গজব নেমে এসেছে,তাদের পাপের তাপেই মরছে যতো নীরিহ মানুষ।এই ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়েও,মৃত্যু কূপে হাবুডুবু খেয়েও যদি লোভ লালসা ছাড়তে না পারে,তবে এই যালিমদের দুনিয়ায় বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়। আমরা বুক ফুলিয়ে গর্ব করি জাতিকে নিয়ে,কিন্তু জাতির এই ক্রান্তিকালে আমাদের সমাজের নেতাদের কর্মকান্ডে লজ্জায় মাটিতে ঢুকলে, মাটিও লজ্জা পাবে।


দোষ কাকে দিবো,দোষ তো আমাদেরই। শিক্ষিত লোকের ভোটে টিপ  সহি দেয়া লোক নেতা হয়। আমাদের সমাজের  সমাজপতিদের যে চরিত্র,তা নিঃসন্দেহে করোনাকে আরো ক্ষেপিয়ে তুলবে।


একদিকে যেমন চলছে জীবন মরন যুদ্ধ,অন্যদিকে তেমনি  চলছে বাকযুদ্ধ,অবোধ শিশুদের মতো কাঁদা ছোড়াছুঁড়ির খেলা,তীব্র সমালোচনা।সৈনিকের গায়েই আবেগী জনতা ছুড়ছেন আক্রোশের আত্নঘাতী তীর।


আজ আঠারো কোটি মানুষ গভীর সংকটে। এই মহাযুদ্ধের অগ্রনায়ক চিকিৎসকদের মনোবল চাঙ্গা রাখা,সাহস জোগানো প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের নৈতিক,মানবিক দায়িত্ব। যুদ্ধটা সার্বজনীন, বিশ্বজনীন।কাজেই সরকার , জনগন, মিডিয়া এখন সবারই প্রয়োজন চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানো-যাতে সবার সমর্থন,সহমর্মিতা নিয়ে,প্রেরনা ও সাহস নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে এই যুদ্ধে।


এই করোনা যুদ্ধে জিততে হলে যুদ্ধের সৈনিক চিকিৎসকে প্রতিটি দেশপ্রমিক নাগরিকের উচিত হবে উৎসাহ দিয়ে মনোবল চাঙ্গা রাখা। এটা মানবিক যুদ্ধ,মানসিক যুদ্ধ।যে কোন কটাক্ষ,মানসিক আঘাত উদ্যমী,দেশপ্রমিক সাহসী সৈনিকদের মনোবল ভেঙ্গে দিতে পারে,অসহিষ্ণু করে তুলতে পারে ;যার পরিনতি হতে পারে খুব দুর্ভাগ্যজনক, যার খেসারতি দিতে হতে পারে জীবনের চরম মূল্যে,অনেক চড়া দামে।


একটা কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা,যার পেশা যাই হোক দিন শেষে আমরা সবাই রক্ত মাংসের মানুষ।চিকিৎসকেরাও মানুষ, তাদেরও পরিবার আছে, সন্তান আছে, অনুভুতি আছে,প্রান আছে,তাই বাঁচার আবেদন আছে।এই সুন্দর পৃথিবীতে কে বাঁচতে চায় না বলুন?


(লেখিকা,কবি ও কলামিস্ট)

  • সর্বশেষ - পাঠকের কলাম