ঢাকা, , ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

মোবাইল হিসাব খুলেছে ১৯ লাখ ২০ হাজার পোশাক শ্রমিক

মোবাইল হিসাব খুলেছে ১৯ লাখ ২০ হাজার পোশাক শ্রমিক

মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এ পর্যন্ত ১৯ লাখ ২০ হাজার নতুন হিসাব খুলেছে পোশাক শ্রমিকরা। সহজে বেতন-ভাতা পেতেই শ্রমিকরা এ হিসাব খুলছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিজিএমইএর সর্বশেষ তথ্য বলছে, প্রণোদনার অর্থ পেতে এখন পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ১৯ লাখ ২০ হাজার অ্যাকাউন্ট খুলেছে পোশাক শ্রমিকরা। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বিকাশে ৯ লাখ ৭০ হাজার হিসাব, রকেটে ৫ লাখ ৫০ হাজার এবং ডাক বিভিাগের 'নগদ' এ অ্যাকাউন্ট খুলেছেন চার লাখ শ্রমিক।

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্যাকেজ থেকে উৎপাদনের ন্যুনতম ৮০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি করছে এমন সচল প্রতিষ্ঠান সুদবিহীন সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে সার্ভিসচার্জ দিয়ে ঋণ নিতে পারবে।

তবে এ ঋণ দিয়ে শুধুমাত্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। কোনোভাবেই কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে এ বেতন সরাসরি শ্রমিকের ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে দিতে হবে। নগদ টাকা দেওয়া যাবে না।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ এপ্রিল এ ঋণ সুবিধা নিতে চায় এমন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ২০ এপ্রিলের মধ্যে মোবাইল অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য শ্রমিক অথবা কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে এ হিসাব খোলার জন্য কোনো ধরনের চার্জ বা ফি কাটা হচ্ছে না। সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা এবং বেতন-ভাতাদি মোবাইলে পৌঁছাতে এ নির্দেশনা দেয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এতে করে শ্রমিকরা ঘরে বসেই নিজ নিজ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টেই বেতন-ভাতা পাবেন।

এরপর থেকে যেসব পোশাক শ্রমিকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসাব নেই তাদের বেতন-ভাতা দিতেই নতুন অ্যাকাউন্ট খুলছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যাদের এখনো হিসাব খোলা হয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়েই বাকি কারখানা শ্রমিকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খোলার কাজ শেষ হবে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে- ‘বেতনের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করতে হবে। কোনো প্রকার নগদ লেনদেন করা যাবে না। যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ব্যাংক হিসাব নেই তাদের মালিক নিজ উদ্যোগে ব্যাংক হিসাব খুলে দেবেন। এসব হিসাবে কোনো চার্জ আরোপ করতে পারবে না।’

  • সর্বশেষ - অর্থনীতি