ঢাকা, , ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

কষ্টে আছে নিম্ন-মধ্যবিত্তরা, কাজে আসছে না প্রণোদনা’

কষ্টে আছে নিম্ন-মধ্যবিত্তরা, কাজে আসছে না প্রণোদনা’

করোনা সংকটে নিম্ন মধ্যবিত্তরা খুবই কষ্টে আছে। সরকার যে সমস্ত প্রণোদনা দিচ্ছে সেটা তাদের কাজে আসছে না অনেক ক্ষেত্রে। তাই সরকারকে খাদ্য বিতরণের সঙ্গে তাদের আর্থিক সমর্থন দেওয়া পরিকল্পনা নিতে হবে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ‘করোনা মোকাবিলায় বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানসমূহের তৎপরতার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সরকারের প্রতি সুপারিশ' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘমেয়াদে এই লকডাইনে মানুষের জীবিকার সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ  করে যারা দৈনিক উপার্যন করেন। নির্মাণ শ্রমিক থেকে আরম্ভ করে পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর। বিভিন্ন কারখানা থেকে শ্রমিকছাঁটাই করছেন তারা, বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজ করেন তারা রয়েছেন। এদের অনেকেরই বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। ক্রমান্নয়নে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকে দারিদ্রসিমার নিচে নেমে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা কাজে আসছে না অনেক ক্ষেত্রে।

নিম্নমধ্যবিত্ত এখন খুবই কষ্টে আছে মন্তব্য করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘যেমন ১০টাকা কেজি চাল তারা অনেকক্ষেত্রে পান না। লজ্জার কারণে তারা সমাজে মুক্তভাবে আর্থিক সহায়তা বা খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির সঙ্গে প্রকাশ্যে যুক্ত হতে পারেন না। এ মুহূর্তে  নিম্নমধ্যবিত্ত এখন খুবই কষ্টের ভেতরে রয়েছে। এখন  সরকারকে এ খাদ্য বিতরণের সঙ্গে কীভাবে আর্থিক সমর্থন দেওয়া যায়, এই বিষটিকে এখন চিন্তা করে দেখতে হবে। নতুন যে পরিকল্পনা নিতে হবে সেখানে কেমন করে সরাসরিভাবে অর্থিক সমর্থন দেওয়া যায় সে বিষয়টি চেষ্টা কররে কীভাবে পরিবার ভিত্তিক আর্থিক সমর্থন দেওয়া যায় সেটা বের করতে হবে।

সাধারণ মানুষের কাছে সরকারকে অর্থিক সহোযোগীতা পৌঁছাতে নাগরিক প্ল্যাটফর্মকে যুক্ত করার আহবান জানিয়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সেটা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সহোযোগী প্রতিষ্ঠানরা বড় ধরনের ভূমিকার পালন করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন,  ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ঠিকমতো মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে কিনা সেটার জন্য সামাজিক দায়বন্ধতা কাঠামো করতে হবে। যাতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার হয়। প্রণোদনাসহ সরকার যে সমস্ত কার্যক্রম করছে, সেগুলো সুসাশনের যে নীতি রয়েছে তা মানা হলে জনবান্ধব হবে।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে যে সমস্ত প্রণোদনা দিয়েছে সরকার, এখানে বেসকারি উন্নয়ন সহোযোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। সেটা সরকারের বাইরের প্রতিষ্ঠান বা এনজিও হোক, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। এখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এনজিওদের ভূমিকা কি হবে সেটা সুনির্দিষ্ট নেই।

সরকারের প্রণোদনার ব্যাপারে এখনও সাধারণ মানুষের মধ্যে খুব বেশি একটা ধারণা নেই বলে মন্তব্য করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

করোনার সংক্রমণ রোধে দেশের বিভিন্ন জেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নারী নির্যাতন ও গর্ভধারণ বেড়েছে বলে দাবি করেন ড. দেবপ্রিয়।

তিনি বলেন, আমাদের সহোযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ব্যাপারে তথ্য আসছে। চলমান মহামারিতে আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে খবর পাচ্ছি নারী নির্যাতন বেড়েছে। এটা রোধ করতে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। মহামারির ফলে স্কুল থেকে অনেকে ঝরে পড়বে। আমরা দেখছি গর্ভধারণ বাড়ছে এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশে প্রায় ১১৫টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের সংস্থাদের নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম গঠিত। সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক পেজে ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানসমূহের তৎপরতার কার্যকারিতা বাড়াতে সরকারের প্রতি সুপারিশ’ শীর্ষক এই ভার্চ্যুয়াল প্রেস ব্রিফিংয় করা হয়।

ব্রিফিংয়ে নিজ নিজ বাসা থেকে সংযুক্ত হন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্য মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান সিপিডির সম্প্রতি প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ৯০ লাখ প্রতি মাসে আট হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ আমরা করেছি। প্রতি পরিবারকে দুই মাস এ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেছি আমরা।

ব্রিফিয়ে জানানো হয়, করোনার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম কাজ করছে। এ প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা দেশব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা চান তারা।

  • সর্বশেষ - জাতীয়