ঢাকা, , ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

মাশরাফির ডাকে মানবতার সেবায় ছাত্রলীগ

মাশরাফির ডাকে মানবতার সেবায় ছাত্রলীগ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে খাদ্যসংকটে থাকা অসহায়দের তালিকা করে রাতের আঁধারে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে নড়াইল জেলা ছাত্রলীগ।

ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মী দিয়ে খোঁজ নিয়ে এবং হটলাইন খুঁলে জানতে চাইছে ত্রাণ পাচ্ছেন না এমন কেউ আছে কি না। লকডাউনের কারণে বাড়ির বাইরে যেতে পারছেন না এমন পরিবারকে ওষুধও পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। জেলাকে সুরক্ষিত রাখতে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করার পাশাপাশি প্রবেশপথেও বসিয়েছে পাহারা।

বোরো ধানের মৌসুম আসায় শ্রমিক সংকটের কথা চিন্তা করে হটলাইন খোলার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রয়োজনে কৃষক ফোন দিয়ে চাইতে পারবেন ধান কাটার সহায়তা। জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবী টিম গড়ে এই কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনা করছে জেলা ছাত্রলীগ।  আর এই কাজে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পাশাপাশি অনুপ্রেরণা ও নির্দেশনা দিচ্ছেন এলাকার সাংসদ এবং ক্রিকেট ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চঞ্চল শাহরিয়ার মিম এবং সাধারণ সম্পাদক রকিবুজ্জামান পলাশ রাইজিংবিডিকে জানান, ‘দেশের সব ক্রান্তিলগ্নে মাটি ও মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছে ছাত্রলীগ। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধেও ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যের নির্দেশনায় নড়াইলে মাশরাফি বিন মুর্তজার স্বপ্নের নড়াইল বাস্তাবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।  করোনা জয়ী না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে সংকটে পড়া নিম্নবিত্তকে যে ত্রাণ তারা দিচ্ছে সেটি ত্রাণ বলছে না। ছাত্রলীগ এটিকে বলছে, ‘উপহার, মানুষ মানুষের জন্য’। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সৌজন্যে মানুষের জন্য উপহার সামগ্রী।

৩০০ পরিবারকে এই উপহার দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে তালিকা করেছে ছাত্রলীগ। এগুলো বিতরণ করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ধারাবাহিকভাবে এই কর্মসূচির আওতায় আরো পরিবার আসবে।  অনেক পরিবার আছে যারা খাদ্য সংকটে থাকা স্বত্ত্বেও মুখে চাইতে পারেন না। সেসব পরিবারকে রাতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চঞ্চল শাহরিয়ার মিম বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি।  দেখা গেছে ছাত্রলীগেরও অনেক অসহায় পরিবার আছে। কিন্তু তারা খাদ্য সংকটে থাকলেও চাইতে পারছে না। আমরা এসব পরিবারও খুঁজে বের করছি। তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেবো।  চেষ্টা করছি সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিতে।’

সাধারণ সম্পাদক রকিবুজ্জামান পলাশ বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় সরকারের পাশপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।  তবে এক্ষেত্রে কেউ দুই-তিনবার পাচ্ছেন আবার কেউ একেবারও পাচ্ছেন না।  আমরা বিভিন্ন জায়গায় হটলাইন করে এবং নেতাকর্মীদের দিয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি কারা এখনো ত্রাণ পাচ্ছেন না।  জেলা ছাত্রলীগের কিছু ইউনিট এরই মধ্যে হটলাইন খুলে খাবার পৌঁছে দেওয়া শুরু করেছ।’

করোনা প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে ছাত্রলীগ যা বিভিন্ন মহলে বেশ প্রশংসিতও হয়েছে। নতুন করে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক টিম গড়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়াতে। ত্রাণ নিয়ে বাড়িতে যেতে, প্রশাসনকে সহায়তা করতে, কৃষকের ধান কেটে দিতে।

চঞ্চল শাহরিয়ার মিম জানান, ‘কেন্দ্রের নির্দেশনার আগেই নড়াইলে সাংসদ মাশরাফি বিন মুর্তজার নির্দেশনায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিটি ইউনিয়নভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী কমিটি আমরা করেছি।  তারা মানুষের সচেতনতা বাড়াতে এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী নড়াইলের ১০টি প্রবেশ পথে ২৪ ঘণ্টা শিফট করে পাহারা বসিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  যেন করোনা সংক্রমণ অন্য জেলা থেকে নড়াইলে বিস্তার ঘটাতে না পারে।  এছাড়া সরকারের উন্মুক্ত খাদ্য কর্মসূচি ওএমএসের যে চাল দেওয়া হয় পৌরসভায় এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে, সেই বিষয়ে নজর রাখছে ছাত্রলীগ।  যাতে কেউ ওজনে কম না দেয় এবং সঠিক লোক সেই সহায়তা পায়। একই সঙ্গে সামাজিক দুরত্ব মেনে এগুলো সংগ্রহ করছে কি না-সেগুলোর জন্য রং গিয়ে গোলাকার বৃত্ত একে দিচ্ছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, তারা নতুন একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন।  সেটি হচ্ছে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া।  অনেক বাাড়ি আছেন যেখানে লোকবলের সংকট রয়েছে অথবা দেশব্যাপী অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে বাড়িতে লোকজন আসতে পারছেন না।  এই পরিস্থিতিতে কোনও অসুস্থ বা সমস্যায় পড়া মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসবে ছাত্রলীগ।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি হটলাইন ছড়িয়ে দিচ্ছে যাতে যে কেউ ফোন করে এই সেবা নিতে পারবে।

রকিবুজ্জামান পলাশ  জানান, ‘একটি গ্রুপ করে আমরা এটা এই সেবা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি।’

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বোরো মৌসুমে শ্রমিক সংকটে থাকা এলাকাগুলোতে ধান কেটে কৃষককে সহায়তা করবে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগ। পৃথক কমিটি করে একটি হটলাইনের মাধ্যমে এই সেবা খুলবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।  এর মাধ্যমে কোনও কৃষকের সামর্থ না থাকলেও বা অন্য কোনও সমস্যার কারণে ধান কাটতে প্রতিবন্ধকতা থাকলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসবে।

নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য রাইজিংবিডিকে বলেন, সারা দেশে ছাত্রলীগ মানবতার ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।  করোনা সংকটে একটি মানুষও সংকটে থাকা পর্যন্ত এবং এই যুদ্ধে জয়ী না হওয়া পর্যন্ত মানবতার চাঁদর নিয়ে হাজির হবে ছাত্রলীগ প্রতিটি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ