ঢাকা, , ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙের অভিযোগ

১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙের অভিযোগ

অনলাইনে পরীক্ষা ও খাতা মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে দেশের ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অমান্য করে তারা এ কাজ করছে বলে অভিযোগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ’র (পিইউএসএবি)।  তারা এ বিষয়ে ইউজিসিতে লিখিত অভিযোগ করেছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে রাইজিংবিডিকে বলেন, যারা নিয়ম মানবে না তাদের বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগে বলা হয়েছে, বর্তমানে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করতে ইউজিসি থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

‘গত ২২ মার্চ থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু করা হলেও অনেক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নেই।  সারাদেশে লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় মোবাইলে রিচার্জ ও ইন্টারনেট কেনা সম্ভব হচ্ছে না, অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সমস্যা, ধীরগতির ইন্টারনেট হওয়ায় অনলাইনে ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ের কোর্সগুলোর জন্য ল্যাব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানাভাবে অনলাইন ক্লাসের পাঠগুলো সংগ্রহ করে বাসায় বসে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব সমস্যার পরও কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ও খাতা মূল্যায়নসহ নতুন ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। তার মধ্যে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, এআইইউবি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, ইউল্যাব, ইস্টান ইউনিভার্সিটি, নর্থ-সাউথ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি, চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি রয়েছে। তবে ইউআইইউ, সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এমন প্রস্তুতি শুরু করলেও ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

অভিযোগে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে যেখানে পরিবার নিয়ে সুস্থ থাকাটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে অনলাইনে ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া ও নতুন করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়টি বিবেচনা করে করোনা পরিস্থিতিতে ভর্তি, পরীক্ষা ও খাতা মূল্যায়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ইউজিসিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ রাইজিংবিডিকে বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ মুহূর্তে এটি পুরো অমানবিক। কারণ অনেক শিক্ষার্থী গ্রামে। তাদের বাসায় নেট নাই। থাকলেও দুর্বল। এসময়ে এমন সিদ্ধান্ত মানা যায় না। আমরা এপ্রিল মাস দেখছি। মে থেকে ব্যবস্থা নেবো।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিষয়টি বিবেচনারও আহ্বান জানান তিনি।

  • সর্বশেষ - ক্যাম্পাস