ঢাকা, , ২৫ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

লকডাউন শিবচর, রাস্তা ফাঁকা

লকডাউন শিবচর, রাস্তা ফাঁকা

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশের পর শুক্রবার সকাল থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে রেব হচ্ছে না। উপজেলায় ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে। রাস্তায় মানুষ চলাচল কমে গেছে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শিবচরে করোনাভাইরাস সংক্রামণরোধে ওষুধ, কাঁচাবাজার, মুদি দোকান ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। এর সঙ্গে গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণার ফলে হাট-বাজার ও আবাসিক এলাকায় লোক চলাচল একেবারে কম।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া এবং সারা দেশ লকডাউন হওয়ার  আশঙ্কায় মানুষ নিত্যপণ্য মজুদ করায় বাজারে চাহিদা বেড়েছে। এই  সুযোগে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি প্রকারভেদে ২০০-৩০০ টাকা।

আজ বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শিবচর উপজেলার বাজারে দেখা যায়, মূল সড়কের পাশে বেশ কিছু দোকান তালাবদ্ধ। হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ। তবে গার্মেন্ট ও কাপড়ের দোকান বেশির ভাগই খোলা। এসব দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা একদমই কম। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী দোকান খুলে ক্রেতাশূন্য বসে আছে। উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও নছিমন, করিমন, লেগুনা, ইজিবাইক, মাহিন্দ্র ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। কিছু যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতেও দেখা গেছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে এক জরুরি সভায় করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে শিবচর পৌরসভার দুটি ওয়ার্ড, পাঁচ্চর ইউনিয়নের একটি গ্রাম ও দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের একটি গ্রামে বিদেশ থেকে আসা সব প্রবাসীকে কোয়ারেন্টিন ঘোষণা করা হয়। এসব এলাকার সব মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়। উপজেলার গণপরিবহন বন্ধ এবং ওষুধ, কাঁচামাল ও মুদিদোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় প্রশাসন। এরপর শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলা থেকে সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি বিদেশ থেকে অন্তত তিন হাজারের বেশি মানুষ মাদারীপুরে এসেছে; যাদের বেশিরভাগ শিবচর উপজেলার বাসিন্দা। যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের কয়েকজন শিবচরের। তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়ানোর জন্য শিবচর পৌরসভার দুটি ওয়ার্ড ও দুটি ইউনিয়নের দুটি গ্রামের জনগণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

মাদারীপুরের চার উপজেলা, চার পৌরসভা ও ৬০টি ইউনিয়নে করোনাভাইরাস বিস্তাররোধে কমিটি করেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন থেকে একটি সেলও গঠন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ