ঢাকা, , ২৫ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

করোনাভাইরাস: কোয়ারেন্টাইনে ৬৩৩ জন

করোনাভাইরাস: কোয়ারেন্টাইনে ৬৩৩ জন

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন দ্রুত বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আমাদের দেশে মাত্র তিনজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তবে সতর্কতা হিসেবে বিদেশফেরত অথবা জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্তদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। শুক্রবার দেশে এমন ৬৩৩ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি, সংবাদদাতারা যে সংবাদ পাঠিয়েছেন, তা নিম্নে তুলে ধরা হলো- 

কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামে করোনাভাইরাস সংক্রমণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব ও দুবাইফেরত ছয়জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা সবাই সদর উপজেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ওমরাহ পালন করে এসেছেন পাঁচজন। এরা ৪ ও ৫ মার্চ দেশে ফিরেছেন। এদের বয়স ৪০ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।

তিনি জানান, এছাড়া ৮ মার্চ দুবাই থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবক দেশে ফেরত এসেছেন।

ডা. নজরুল ইসলাম জানান, সবাই সুস্থ এবং স্বাভাবিক রয়েছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জেলার হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করে ৩১টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরমধ্যে জেলা সদরের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ১০টি এবং ৮টি উপজেলা হাসপাতালে ২১টি বেড রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। জনসমাগম হয় এমন সভা-সমাবেশ এড়িয়ে চলার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

বরিশাল:
বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর জেলার দুমকি ও ঝালকাঠির জেলার রাজাপুরে দুইজনকে করোনাভাইরাস সতর্কতায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এ নিয়ে দুই দিনে বরিশাল বিভাগে ১৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল।

তিনি জানান, বরিশাল বিভাগের তিন জেলায় (বরিশাল, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী) ১৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আজ শুক্রবার নতুন দুইজন রয়েছেন।

তারা দুইজনই পুরুষ এবং সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরেছেন্। কোয়ারেন্টাইনে থাকা কারো শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মীরা হোম কোয়ারেন্টাইনের প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

বাকি ১৫ জনের মধ্যে পটুয়াখালীর চারজন; যারা চীনের নাগরিক। তাদের কলাপাড়া উপজেলার পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

বরিশাল জেলার সাতজনের মধ্যে চারজন গৌরনদী, দুইজন হিজলা ও একজন বাকেরগঞ্জ উপজেলার। গৌরনদীর চারজন ইতালি থেকে, হিজলায় একজন সৌদি আরব থেকে ও অপরজন সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে আসা। বাকেরগঞ্জের একজন মালয়েশিয়াফেরত।

ঝালকাঠির চারজনের মধ্যে একজন নেদারল্যান্ডস থেকে ফিরে, একজন সিঙ্গাপুর থেকে এবং দুইজন সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা। এরা সকলে রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

চাঁদপুর:
চাঁদপুর জেলায় করোনাভাইরাস থেকে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে প্রবাস থেকে ফেরা ৬০৮ ব্যক্তিতে নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন।

এ নির্দেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। কোয়ারেন্টাইন হলো রোগ সংক্রমণের শঙ্কায় থাকা ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে পৃথক রাখা।

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে চাঁদপুরে ফিরেছেন ৬০৮ জন। তাদের প্রত্যেককে করোনাভাইরাস থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিজ বাড়িতে নিজ দায়িত্বে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় বিদেশ থেকে চাঁদপুরে ফেরা ৪৮০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এদের বেশিরভাগই এসেছেন সৌদি আরব, দুবাই, লেবানন, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইতালি থেকে।

বেশ কয়েকজন এসেছেন লিবিয়া, স্পেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও আমেরিকা থেকে। তালিকায় আরও নাম যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র। প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসন থেকে বিদেশফেরা ব্যক্তিদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে।

চাঁদপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধমূলক সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, পুরো জেলায় ১০০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আবাসিক হোটেল ও স্কুল ভবনও তৈরি করে রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া শহরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা প্রবাসী স্বামী ও স্ত্রীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

আজ সকাল থেকে তারা নিজ বাড়িতে অন্যদের থেকে পৃথক রয়েছেন এবং এভাবে ১৪ দিন থাকবেন। গত সোমবার তারা দেশে আসেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ সেলের দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার রাকিবুল ইসলাম জানান, তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ সেলকে বিষয়টি জানিয়েছেন। সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের শরীর পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

কোয়ারেন্টাইনে থাকা যুবক সুস্থ থাকলেও তার স্ত্রীর কাশি রয়েছে। ওই চিকিৎসক জানান, তারা যেন একটি কক্ষে থাকেন, সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের খাবারও যেন দূর থেকে দেওয়া হয়।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ