ঢাকা, , ২৫ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

মাস্কের বাড়তি দাম: ফার্মেসিতে অভিযান চালালেও নজর নেই ফুটপাতে

মাস্কের বাড়তি দাম: ফার্মেসিতে অভিযান চালালেও নজর নেই ফুটপাতে

দেশে তিন জন করোনা রোগী শনাক্তির পর ফার্মেসিগুলোয় হুহু করে বেড়ে গেছে মাস্ক ও হ্যান্ড-সেনিটাইজারের দাম।  দেখাদেখি ফুটপাতের ব‌্যবসায়ী ও গণপরিহনে হকাররাও মাস্কের বাড়তি দাম রাখা শুরু করে দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ, র‌্যাপিড অ‌্যাকশন ব‌্যাটালিয়ন (র‌্যাব), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের কয়েকটি সংস্থা রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান  চালায়।   এসব অভিযানে বেশ কিছু ফার্মেসিকে জরিমানা করা হলেও ফুটপাতের ব‌্যবসায়ী ও  গণপরিবহনের হকারদের ওপর থেকে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেছে।

এদিকে, প্রশাসনের ত্রিমুখী অভিযান শুরুর দুই দিন পর থেকেই ভোক্তা অধিকার জানাচ্ছে, ফার্মেসিগুলো আর মাস্ক-সেনিটাইজারের বাড়তি দাম রাখছে না।  আর অভিযানে জরিমানা এড়াতে গিয়ে অনেক ফার্মেসিগুলো মাস্ক বিক্রি বন্ধও করে দিয়েছে বলেও ভোক্তা অধিকার দাবি করে।

রাজধানীর খুচরা ও পাইকারি বাজারগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনো মাস্ক-সেনিটাইজার বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ফার্মেসি ও সুপারশপে মজুতও রয়েছে।

গত মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবারের অভিযানের শেষে ভোক্তা অধিকার দাবি করে, কোথাও বাড়তি দামে মাস্ক ও হ্যান্ড সেনিটাইজার বিক্রি করা হচ্ছে না।

তবে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ও শুক্রবার পল্টনের সার্জিক্যাল মার্কেট ও শাহবাগের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মজুত কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে বিক্রেতার বাড়তি দাম রাখছেন।

জানতে চাইলে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, ‘তিন দিনের অভিযানে গুলশান, মিরপুর ও শাহবাগ এলাকার ফার্মেসিগুলোয় মাস্ক পাওয়া যায়নি।  যেসব ফার্মেসিতে সামান্য পাওয়া গেছে, সেগুলোতে নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে।  আর হ্যান্ড সেনিটাইজার নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে।’

শাহবাগের রাজধানী ফার্মেসির বিক্রেতা মো. মোয়াজ্জিন বলেন, ‘আমরা মূলত সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি করতাম। এখন সাপ্লাই আসছে না। তাই অনেকে বেশি দামে কিনে এনে বিক্রি করছি।  হ্যান্ড-সেনিটাইজারও ঠিকমতো দিচ্ছে না কোম্পানিগুলো। এখন যাদের কাছে স্টক আছে, তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন।’

নাজ ফার্মার মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অনেকেই বেশি দামে বিক্রি করছেন।  তাদের স্টক আছে।  আমার স্টক নেই, স্টক বাড়াচ্ছিও না। কারণ শুরুতেই অনেকে ব্যবসা করে ফেলেছেন।  এখন খুব একটা চাহিদাও নেই।’

পল্টন সার্জিক্যাল মার্কেটের মাস্ক ব্যবসায়ী নন্দ কুমার বলেন, ‘এগুলো দেশেই তৈরি হয়।  চাহিদা বাড়ায় পাইকারি বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছেন।  এই কারণে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।  এখনো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’

এদিকে, ফুটপাতের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মেসির চেয়ে বেশি  দামে মাস্ক বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, গণপরিবহনে হকাররাও অতিরিক্ত দামে মাস্ক ।বিক্রি করছেন।

ফার্মগেটের ছন্দ সিনেমা হলের সামনে শিশুদের কাপড় বিক্রির পাশাপাশি সার্জারি মাস্ক বিক্রি করছেন একজন হকার।  তিনি ৩০ টাকার দামের চায়না মাস্ক বিক্রি করছেন ৯০ থেকে ১১০টাকায়।  গত পাঁচ দিন ধরে মাস্ক ব্যবসা ভালো যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।  বলেন, এখন কেউ দামের দিকে নজর দিচ্ছে না।  যে দাম বলি, তাতেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা।

বাড়তি দাম রোধে ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায় কি না, জানতে চাইলে আরেক বিক্রেতা ওবায়দুল বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান এলে আমরা সব গুছিয়ে পালাই।  তবে, এখন পর্যন্ত মাস্কের বিষয়ে কোনো অভিযান হয়নি।’

এছাড়া গণপরিবহনের ‘আখেরি অফার’, ‘সবচেয়ে কম দামে পাচ্ছেন’, ‘একটির সঙ্গে আরেকটি ফ্রি’-এসব হরেক রকম বিজ্ঞাপন দিয়ে বাড়তি দামে মাস্ক বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের নির্বাহী ম‌্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘কেউ বেশি দামে মাস্ক-সেনিটাইজার বিক্রি করলে আমরা ব‌্যবস্থা নেবো। ফার্মেসি বা ফুটপাত বা গণপরিবহন, সেখানেই বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাবো, সেখানেই ব‌্যবস্থা নেবো।’

এদিকে, জাতীয় ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার বলেন, ‘মহাপরিচালক যদি নির্দেশ দেন, তাহলে আমরা ব‌্যবস্থা নেবো। ’

বিষয়টি জানতে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহাকে    একাধিকবার মোবাইলফোনে কল দিয়ে ও এসএমএস পাঠিয়েও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ১০ টা) কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ - স্বাস্খ্য