ঢাকা, , ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

আসল কাজটা বোলাররাই করে দিয়েছে

আসল কাজটা বোলাররাই করে দিয়েছে

প্রথমবার আইসিসি বিশ্ব যুব (অনূর্ধ-১৯) ক্রিকেটে প্রথমবার ফাইনাল খেলেই বিশ্বসেরার হাতছানি। ১৭৮ রান করতে পারলেই যুবাদের মাথায় ক্রিকেটে বিশ্ব সেরার মুকুট শোভা পাবে জুনিয়র টাইগারদের মাথায়।


তাও এমন এক দলের বিপক্ষে যারা ক্রিকেটের বড় শক্তি। বড়দের পাশাপাশি যুবাদের ক্রিকেটের বিশ্ব আসরের ফাইনাল খেলাকে যারা অভ্যাসে পরিণত করেছে। সন্দেহাতীতভাবেই বিশ্ব যুব ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সাতবারের ফাইনালিস্ট ভারত।


এর মধ্যে ২০১৬, ২০১৮ এবং ২০২০- এই তিনবারে টানা ফাইনাল খেলছে তারা। সেই দলকে ফাইনালে ১৭৭ রানে বেঁধে ফেলা- বিশ্বসেরা হতে এর চেয়ে ভাল প্লাটফর্ম আর কি হতে পারে?


অতিবড় ক্রিকেট পন্ডিত থেকে শুরু করে পাড়ার- গলির অবুঝ কিশোরও বলবেন, বিশ্বসেরা হতে সত্যি এটাই সর্বোত্তম প্লাটফর্ম। কারণ, ৫০ ওভারের ফাইনালে ১৭৮ রানের টার্গেট মানেই কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাওয়া। লক্ষ্যটা আয়ত্বের ভিতরে থাকা।


নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের বোলাররা কৃতিত্বের দাবিদার। যুব ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের ব্যাটসম্যানরা বরাবরই মেধাবি। তাদের টেকনিক, কৌশল আর ব্যাটিং শৈলি অন্য যে কোন দলের চেয়ে সমৃদ্ধ। সাজানো গোছানো। টেম্পারামেন্টও দারুণ।


সর্বোপরি দলটির কোচ রাহুল দ্রাবিড়- যার ব্যাটিং টেকনিক, টেম্পারামেন্ট এখনো আদর্শ হয়ে আছে ক্রিকেটের ইতিহাসে। রাহুল দ্রাবিড়ের একটি ভাল ইনিংস শতশত কিশোর-যুবার ব্যাটিং টেকনিক ও শৈলি সমৃদ্ধ করার জন্য যথেষ্ঠ। যার ব্যাটিং টেকনিক ছিল নিখুঁত। বলের মেধা-গুন বিচার করে খেলাতেও দ্রাবিড় এখনো অনুকরণীয়।


এমন উঁচু ও বিশ্বমানের উইলোবাজের হাতে গড়া ভারতীয় যুবাদের ১৭০-এর ঘরে অলআউট করা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। যে কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে বাংলাদেশের বোলারদের বোলিংয়ের প্রশংসা করা ছাড়া তাই উপায়ও নেই। অতিবড় ভারতপ্রেমী আর কট্ট্রর সমালোচকও মানছেন দারুণ বোলিং করেছেন বাংলাদেশের যুবারা।



 

বোঝাই যায়, বোলারদের সামর্থ্যের ওপর অনেক বেশি আস্থা ছিল অধিনায়ক আকবর আলির। তাইতো টস জিতে আগে বোলিং বেছে নিলেন তিনি। আর বোলিং মিশনের নেতৃত্বটা একদম তিন ফ্রন্টলাইন পেসারের হাতে তুলে দিলেন।


খেলা না দেখা কেউ হয়ত ভাবছেন, বাংলাদেশ তো বরাবরই স্পিনারে ঠাসা দল। হয়ত কোনো স্পিনারের জাদুকরি বোলিং ক্যারিশমায় ভারতীয়দের স্বচ্ছন্দ, সাবলীল ব্যাটিং তথা হাত খুলে খেলা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছে।


আসলে তা নয়। ভারতীয়দের ১৮০’র নিচে আটকে রাখার কাজটি করেছেন মূলতঃ পেসাররা। তিন ফ্রন্টফলাইন পেসার শরিফুল (১০-১-৩১-২), তানজিম হাসান সাকিব (৮.২-২-২৮-২), আর অভিষেক দাস (৯-০-৪০-৩)। তিনজন মিলেই পতন ঘটিয়েছেন ভারতীয়দের।


এদের মাপা বোলিংয়ের বিপক্ষে একমাত্র ওপেনার জাসওয়াল (১২১ বলে ৮৮) ছাড়া আর কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। পুরো ভারতীয় ইনিংসে জাসওয়াল ছাড়া আর দু’জন মাত্র ব্যাটসম্যান দুই অংকে পা রাখতে পেরেছেন। তারা হলেন তিলক ভার্মা (৬৫ বলে ৩৮), আর ধ্রুব জুরেল (৩৮ বলে ২২)। এছাড়া আরো কোনো ব্যাটসম্যানই দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।


এছাড়া বাকি আটজন মিলে করেছেন মোটে (২, ৭, ০, ৩, ২, ৩, ০, ১) = ১৮ রান। আর অতিরিক্ত থেকে এসেছে ১১ (লেগবাই ১, ওয়াইড ১০)।


অবশ্য ভারতের রানের চাকা স্লথ রাখতে আরও এক বাংলাদেশী বোলার কার্যকর অবদান রেখেছেন। তিনি হলেন রাকিবুল হাসান। এ বাঁ-হাতি স্পিনার (১০-১-২৯-১) খুব ভাল জায়গায় বল ফেলেছেন। তার বলে রান করতে খুব কষ্ট হয়েছে ভারতীয়দের।


মোটকথা, পচেফস্ট্রমের ফাইনালের প্রথম অংশের পুরোটা জুড়েই ছিল বাংলাদেশের বোলারদের দাপট। তাদের নজরকাড়া, ভাল ও সমীহ জাগানো বোলিংয়ের সামনে বড়সড় পুঁজি গড়া বহুদুরে, লড়াকু স্কোরও গড়তে পারেনি ভারতীয়রা।


কোন বিশ্ব আসরের ফাইনালে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এমন জবুথবু হয়ে থাকতে কে দেখেছে, কবে?


বাংলাদেশের বোলাররা তাদের করণীয় কাজ করে দিয়েছেন। বিশ্বসেরা হতে মাত্র ১৭৮ রানের টার্গেট, যে কোন উইকেটে আর যে কোন পিচে বেশি না। ভারতীয়দের ১৭৭ রানে বেঁধে ফেলে সেই কাজটি করে দিয়েছেন শরিফুল, অভিষেক, সাকিব আর রকিবুলরা। দেখা যাক, এখন ব্যাটসম্যানরা বোলারদের সাজানো পথে হেঁটে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন কি না?

  • সর্বশেষ - ক্রীড়াঙ্গন