ঢাকা, , ১৬ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে ভোটকেন্দ্রগুলো পাহারা দেবে আওয়ামী লীগ :কাদের

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে ভোটকেন্দ্রগুলো পাহারা দেবে আওয়ামী লীগ :কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ‘সুষ্ঠু’ করতে তার দলের কর্মীরা ‘সাংগঠনিকভাবে’ কেন্দ্র পাহারায় থাকবে।


ভোটের দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ভোটকেন্দ্র দখল করতে আওয়ামী লীগ ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ এনে ঢাকায় জড়ো করছে বলে যে অভিযোগ বিএনপি করেছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকরা ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

উত্তরে তিনি বলেন, “বিএনপি তাদের স্বভাবসুলভ মিথ্যাচার, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছে। এসবের মধ্য দিয়ে তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা এবং ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।”

শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ২ হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রে একটানা ভোট চলবে। তার আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারের সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। 

শেষ মুহূর্তের জমজমাট প্রচারের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে কথার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। 

কাদের বলেন, “নির্বাচনের মাঠে জনগণের আশানুরুপ সাড়া না পেয়ে তারা বিভ্রান্ত নাবিকের মত আচরণ করছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং তাদের মনোনিত প্রার্থীর কথাবার্তা এবং আচরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের প্রত্যক্ষ উসকানি পরিলক্ষিত হচ্ছে।”

ভোট রক্ষার নামে বিএনপি কেন্দ্রে কেন্দ্রে হট্টগোল করার পায়তারা করছে বলেও দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে খবর আছে বিএনপি ঢাকার বাইরে থেকে প্রচুর বহিরাগতকে ঢাকায় এনে জড়ো করেছে। এদের মধ্যে দাগী আসামি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী রয়েছে। ঢাকায় নিয়ে এসে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচশর মত লোক রাখার পাঁয়তারা করছে। 

“ভোট রক্ষার নামে তাদের এই অভিসন্ধি এটা আমরা জানতে পেরেছি। তারা এই বহিরাহগদের দিয়ে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে হট্টগোল পাকিয়ে নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা করছে। নির্বাচন বানচালের নীলনকশা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করছে।”

এ কারণেই আওয়ামী লীগ ‘সাংগঠনিকভাবে’ প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্তব্য করে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কেন্দ্রগুলোতে আমাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারা দেবে, যাতে করে জনগণের ভোট রক্ষার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করতে পারি। আমরা চাই কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকুক।”

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করবে। আমরাদেরও দায়িত্ব আছে, জনগণ যেন ভীতিমুক্ত পরিবেশে যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারে, সে ব্যপারে সাংগঠনিকভাবে আমরাও নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিচ্ছি।”

বড় দুই দলের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান সংঘাতের রূপ নিতে পারে কি না- এ প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমরাতো ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য, জনগণকে সহযোগিতা করার জন্য মাঠে থাকব, কারো সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি করার জন্য নেতাকর্মীদের কোনো নির্দেশনা দিইনি।… আমরা এখানে প্রতিপক্ষের সাথে কোনো রকম সংঘাত-সংঘর্ষে যাব না।”

সরকার ইভিএমের মাধ্যমে ‘কারচুপির সুক্ষ্ম পথ’ বের করেছে বলে বিএনপির অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমি মনে করি কারচুপি ঠেকানের কৌশল হিসেবে ইভিএম হচ্ছে উত্তম ব্যবস্থা। এটা তারা মনে করতে পারে না কারণ, তারা এখনও এনালগে রয়ে গেছে। তারা এখনও ডিজিটালে আসতে পারেনি। তারা আধুনিক প্রযুক্তি পছন্দ করে না। কারণ তারা নিজেরাই সেই অন্ধকারে রয়ে গেছে।

“বিএনপি  ইলেকশন বলতে বোঝে কেন্দ্র দখল, ভোট কারচুপি- এসবই তাদের নির্বাচন ছিল। কারচুপিমুক্ত নির্বাচন তারা কখনও চিন্তাও করে না। তারা কেন্দ্র দখলের রাজনীতি অতীতে করেছে…. কিন্তু কেন্দ্র দখল, জবর দখল ও ভোট দখলের কোনো সুযোগ ইভিএমএ নেই। এখানে হচ্ছে বিএনপির মূল ভয়ের কারণ।“

অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, শিক্ষা ও মানব সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, আইন সম্পাদক নজিবুল্লা হিরু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকী, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার, শাহাবউদ্দিন ফরাজী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ - রাজনীতি