ঢাকা, , ২৬ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

আর নয় অভিযোগ এখন যেখানেই বাধা সেখানেই প্রতিরোধ :ইশরাক হোসেন

আর নয় অভিযোগ এখন যেখানেই বাধা সেখানেই প্রতিরোধ :ইশরাক হোসেন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আমরা অভিযোগ দিলে সরকারি দলের নেতারা, মন্ত্রীরা আমাদেরকে ‘অভিযোগের দল’ বলেন, ‘নালিশ পার্টি’ বলেন। আমাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, পোস্টার লাগাতে গেলে হুমকি দেয়া হচ্ছে।


নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। অতএব আমরা এখন থেকে আর কোনও অভিযোগ দেবো না। এখন থেকে বাধা এলেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলে দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবো।’


মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে খিলগাঁও ৭৫ নং ওয়ার্ডের ত্রিমোহনী বাজারে পঞ্চম দিনের নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ‘গত ১৩ বছর ধরে দেশকে তিলে তিলে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র নাই, কারো কথা বলার অধিকার নাই এবং চারিদিকে উন্নয়নের নামে ধোঁয়া। কিন্তু আমরা কোনও উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি না। ঢাকা আজকে সবচেয়ে দূষিত শহর এবং বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় এক নম্বরে আছে।’


তিনি বলেন, ‘আমি যখন এলাকায় আসি যে রাস্তা দিয়ে এসেছি সেই রাস্তার যে দুর্দশা যে বেহাল অবস্থা দেখেছি এবং দু’পাশে যে জলাশয়গুলো রয়েছে সেগুলোর যে করুণ দশা দেখেছি তাতে আমার সত্যিই খারাপ লেগেছে। এই সরকার বলে তারা উন্নয়ন করেছে, স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে, অমুক সেতু তমুক সেতু করছে। কিন্তু এগুলো সবই আসলে দুর্নীতির প্রজেক্ট। প্রত্যেকটা মেগা প্রজেক্ট করে সেখান থেকে লক্ষ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। বিদেশে আরাম-আয়েশে ফুর্তি করছে। আর বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ আমরা নাগরিকদের দিন দিন দুর্দশা বেড়েই চলেছে।’


তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করতে চাই, যদি আগামী ৩০ তারিখে আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন তবে আপনাদের যে অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন সেটিকে চূড়ান্ত রূপ দেয়ার জন্য আমি সকল কার্যক্রম করবো। আপনাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করছি, আমি সব সময় সুখে-দুখে আপনাদের পাশে থাকবো এবং আমি আমার রক্ত, ঘাম দিয়ে পরিশ্রম করে ঢাকার শহরকে উন্নত করবো। ঢাকার পরিবেশকে দূষণমুক্ত করার জন্য সবকিছু করবো।’


বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন এটি আমার ইশরাক হোসেনের লড়াই নয়। এটি ধানের শীষের লড়াই। জনগণের লড়াই। গণতন্ত্রের লড়াই। আপনারা সেই লড়াইয়ে শরিক হবেন। আপনারা ৩০ তারিখে উপস্থিত হয়ে ভোট দেবেন, আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করবো।’


পুজোর কারণে সনাতন ধর্মালম্বীরা নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি প্রার্থী হিসেবে মনে করছি, অবশ্যই সনাতন ধর্মালম্বীদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। কারণ মুসলমানদের ওইদিন ঈদ থাকলে নিশ্চয়ই আমরা চাইতাম না ওইদিন ভোট হোক। হিন্দু সম্প্রদায়ের সরস্বতী পূজার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। আর এটাতো কোর্টের ব্যাপার। নিশ্চয়ই কোর্ট আর ইলেকশন কমিশন মিলে এটা নির্ধারণ করবে।’


লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নয়, একটি ফিল্ড তৈরি হচ্ছে। আর সেই ফিল্ড হলো ভোট ডাকাতির একতরফা ফিল্ড।’


বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন এসব বিষয়ে কথা বলি তখন সরকারি দলের নেতারা, মন্ত্রীরা বলেন ‘বিএনপি নালিশ পার্টি, অভিযোগের দল’। তাই আমরা আর এসব কথা বলতে চাই না। আমরা খালি এতোটুকু বলতে চাই জনগণ আমাদের সাথে রয়েছে। জনগণের শক্তি নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাবো। কারো কোনো বাধা আমরা মানবো না। কোনও নালিশ কাউকে দেবো না। মহান আল্লাহতালা উপরে আছেন, উনি দেখছেন। নিচে আমাদের জনগণ রয়েছে। আমাদের শক্তি জনগণ।’


ধানের শীষের এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘আমরা পোস্টার লাগাতে গেলে ছিঁড়ে ফেলছে। বাধা দেয়া হচ্ছে। মারধর করা হচ্ছে। এমনও বলা হচ্ছে, যদি আবার পোস্টার লাগাতে আসা হয় তাহলে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেবে। পোস্টার লাগানো কি অপরাধ? পোস্টার লাগানো তো অপরাধ নয়। তাহলে কেন থানা পুলিশে দেওয়ার হুমকির দেবে পোস্টার লাগাতে গেলে।’


উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ইশরাক বলেন, ‘আপনারা জানেন, দেশে আজকে কি চলছে। আবার নতুন করে এখানে ব্যাখ্যা দেয়ার কিছু নেই। আপনারা জানেন দেশে একটা স্বৈরশাসন চলছে। অপশাসন চলছে। একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। যাই হোক এর মধ্যে জনগণ আমাদের সাথে রয়েছে। আমরা দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবো।’


তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে নতুন করে যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোর উন্নয়নে আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন যে ওয়ার্ডগুলো যুক্ত হয়েছে সে বিষয়গুলো আমরা আমাদের ইশতেহারে তুলে ধরবো। আপনার জানেন সরকার তো শহরের ভেতরের ওয়ার্ডগুলোতেও নজর দেয় না, বাইরের ওয়ার্ডগুলো তো আরও দূরের কথা। যেহেতু তাদের জবাবদিহিতা নেই জনগণের প্রতি, তারা পুলিশি শক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিল অতীতে, এখন জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা নেই, তাই তারা কোনও ব্যাপারেই কোনও কর্ণপাত করে না। জনগণকে সাথে নিয়ে সকল অপশক্তি আমরা প্রতিরোধ করবো এবং আমাদের বিজয় আসবেই। জনগণের বিজয় যুগে যুগে হয়েছে।’

  • সর্বশেষ - রাজনীতি