১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করা হবে : কৃষিমন্ত্রী

0
71

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করা হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সরকার চাল রপ্তানির এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে ধানের কম বাজার মূল্যের বিষয়ে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘চাল রপ্তানি, উপকরণের দাম কমানো এবং আরো উন্নত জাত আবিষ্কার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এগুলো খুব দীর্ঘেমেয়াদী প্রক্রিয়া নয়। ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রপ্তানিতে যেতে পারি। তা ছাড়া সরকার যাতে চাষিদের কাছ থেকে আরো বেশি চাল কিনতে পারে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি ধান সংগ্রহের পরিমাণ ৫০ লাখ টনে উন্নীত করা হবে।‘

তিনি বলেন, ‘কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনে কৃষককে লাভবান করার ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনীতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। সেই এরশাদের আমল থেকে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কিনে কৃষককে লাভবান করার বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৩৬টাকা কেজি দরে কিনছি, কিন্তু চাষি পাচ্ছে না। এ বাস্তবতা এতই কঠিন যে, কোনো পদ্ধতি বের করতে পারছি না, কীভাবে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কেনা যায়।’

এর আগে সচিবালয়ে নিজ অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুর সঙ্গে বৈঠক করেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বোরোতে কৃষক ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় খুবই দুঃশ্চিন্তায় রয়েছি। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করছে।’

দুশ্চিন্তার কারণ উল্লেখ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ধান ভালো হলে আমরা খুশি হই, বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানে আমরা ঘাটতি ছিলাম। সারা পৃথিবীতে আমরা খাদ্যের ঝুলি নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। সেই বাংলাদেশে ধান এতো উৎপাদন হয়েছে যে চাষিরা এখন এটাকে বার্ডেন মনে করছে।’

তিনি বলেন, ‘ইমিডিয়েটলি এ সমস্যার সমাধান করা কঠিন। আমরা বলি যে বাংলাদেশে মায়ের মুখের হাসি সোনালী ধানের শীষে। সোনালী ধান দেখে মানুষের মুখে হাসি ফোটে। কিন্তু এটা যে আমাদের জন্য এমন বিড়ম্বনা হবে আমরা ভাবিনি।’

‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে শ্রমিকের খরচ। ধান লাগানো থেকে শুরু করে মাড়াই পর্যন্ত অনেক খরচ হচ্ছে, পোষাতে পারছে না কৃষক। এটাও জাতির জন্য অর্থনীতির জন্য একটি খুশির খবর যে, আজ শ্রমিকদের ঘাটতি। এর চেয়ে খুশির খবর আর কী হতে পারে,’ যোগ করেন মন্ত্রী।

চাষিদের দুর্দশা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘চাষির জন্য এটা একটা দুঃসংবাদ, সে এতো কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে  ধান আবাদ করছে। তার রক্তকে সোনালী ফসলে রূপান্তর হচ্ছে, কিন্তু ন্যায্য দাম পাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘এটার জন্য সরকারের একদম সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমরা আলাপ করেছি, খুবই দুঃশ্চিন্তায় রয়েছি। এটা নিয়ে আমরা গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করছি, কী কী পদক্ষেপ নিলে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারি এবং চাষির মুখে হাসি ফোটাতে পারি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তাদের নানাভাবে সহযোগিতা দিয়েছে। সার ও বিভিন্ন উপকরণের দাম কমিয়েছে, ঋণ দিয়েছে, ভাল বীজ দিয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রেও অনেক বিনিয়োগ করেছে, এসব কারণে ধানের ভালো জাত এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন এগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি করতে হবে। খাদ্যকে কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা যায়, ভ্যালু অ্যাড করা যায়। সেই চিন্তাভাবনা করছে সরকার।’

Print Friendly, PDF & Email